আমি বাবা-মা ও দাদা-দাদির কথা ভাবছিলাম: সঞ্জয়

Date:

মাসের পর মাস প্রস্তুতি, অসংখ্য মহড়া ও একরাশ স্বপ্ন নিয়ে সঞ্জয় দেব অপেক্ষা করেছিলেন এই মুহূর্তের জন্য। অবশেষে যখন গানের বেজ ড্রপ করল, তখন তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে। ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণ ও উদযাপনের ভ্লগগুলোর পেছনে লুকিয়ে ছিল নিরন্তর পরিশ্রম, ত্যাগ আর অনেক প্রত্যাশা। অথচ যার জন্য এত আয়োজন, সেই মুহূর্তটি যেন এলো আর এক নিমেষেই চলে গেল।

ফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে সঞ্জয় দেব বলেন, ‘সত্যি বলতে, সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেছে। আমি এখনো তার রেশ বুঝতে পারছি।’

তার ভাষ্য, ‘এই পোশাক তৈরি, মহড়া, প্রস্তুতি ও এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখা—এসবের পেছনে আমরা অনেক সময় দিয়েছি। তারপর হঠাৎ করেই ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে, আর তিন মিনিটের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল।’

গত শুক্রবার বিকেলে  কানাডার টরেন্টোর বিএমও স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গায়ক, সংগীত পরিচালক ও ডিজে সঞ্জয় দেব একটি ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক মুহূর্তের অংশ হন। তিনি বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি ও ফরাসি হিপহপ তারকা ভেজেড্রিমের সঙ্গে ‘সির সির’ গানটি পরিবেশন করেন। এটি এবারের ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সাউন্ডট্র্যাক অ্যালবামের অন্যতম একটি গান। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের সামনে এটি পরিবেশনা করেন সঞ্জয়।

স্টেডিয়ামের উচ্ছ্বাস ও আতশবাজির ঝলকানির মধ্যেও তার পরিবেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নিজের শিকড়কে তুলে ধরা। সঞ্জয়ের গায়ে ছিল গাঢ় মেরুন রঙের একটি জ্যাকেট। জ্যাকেটের হাতায় সূক্ষ্ম কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শাপলা ফুল ও বাংলাদেশের পতাকার লাল সূর্য।

তিনি যখনই জ্যাকেটের হাতার দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, তখন কেবল ওই নকশা দেখাচ্ছিলেন না, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজের বাংলাদেশি পরিচয়ও তুলে ধরছিলেন।

সঞ্জয় দেব বলেন, ‘আমি বাবা-মায়ের কথা ভাবছিলাম। আমার দাদির কথা ভাবছিলাম। আমার দাদুর কথাও মনে পড়ছিল, তিনি এখন আর আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, দাদু দূর থেকে আমাকে দেখছেন। আর ভাবছিলাম সেই সময়ের কথা, যখন তিনি এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখতেন।’

যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর অনেক আগেই সঞ্জয়ের সংগীতের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল পরিবারে। তার পরিবারে শাস্ত্রীয় সংগীতচর্চার রেওয়াজ ছিল। পরে ক্যালিফোর্নিয়া গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন।

 

‘ছোটবেলায় আমি কখনো ভাবিনি যে, একদিন ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করব। তবে সত্যি যখন এমন কিছু হলো, সেই অনুভূতি খুবই আবেগের,’ বলেন তিনি।

তবে এই অর্জনকে তার পথচলার শেষ ভাবার সুযোগ নেই। সঞ্জয়ের কাছে প্রতিটি অর্জন হলো, নতুন পথচলার শুরু। যুক্তরাষ্ট্রের টপ-৪০ চার্টে জায়গা করে নেওয়া, বাদশাহ ও গটসেভেন’স ইয়ংজের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তারই প্রমাণ।

তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই মনে করি, এটি কেবল শুরু। আমার লক্ষ্য কখনও একটি মুহূর্ত বা মঞ্চে সীমাবদ্ধ ছিল না। আমি সবসময় বৈশ্বিক ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছি, যেখানে সংগীতের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সংযোগ গড়ে উঠবে।’

সঞ্জয় দেবের মনোযোগ এখন আবার স্টুডিওর কাজে ও সামনে থাকা বিশ্ব সফরের প্রস্তুতি নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘এই গল্প আমি নতুন গান ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লাইভ শোর মাধ্যমে বলতে চাই। আমাদের সামনে অনেক নতুন গান আসছে। সির সির গান নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়ায় আমি আগের চেয়ে আরও অনুপ্রাণিত।’

বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করার স্মৃতি সঞ্জয়ের জন্য অবশ্যই বিশেষ। তবে এর চেয়েও বড় যে শিক্ষা তিনি পেয়েছেন, তা হলো সংগীতের শক্তি।

তিনি বলেন, ‘ফিফা আমাকে শিখিয়েছে, সংগীত পুরো পৃথিবীর মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে। আমি সেই অনুভূতি ধরে রাখতে চাই।’

Share post:

Popular

More like this
Related

২০ নতুন এসপিসহ ৬৪ জেলায় রদবদল, ওসিদের বদলিও লটারিতে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ৬৪টি জেলার...

মামদানির শহরে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ

শিগগির মেয়র জোহরান মামদানির শহর নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে...

আবারও সম্পর্কের গল্পে জয়া, আসছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’

পর্দায় জয়া আহসানের আবির্ভাব মানেই নতুন কোনো চরিত্র, নতুন...

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৫৮৮ বিলিয়ন ডলার

রাশিয়ার চার বছরের আগ্রাসনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইউক্রেনের...