মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের পাতাতোলা নারী চা শ্রমিক রূপন ভূমিজ (৫৪)। বছর পাঁচেক আগে তার কুষ্ঠরোগ শনাক্ত হয়। ওই সময় হঠাৎ করেই তিনি মুখে সাদা স্পট ও ছোট ছোট গোটার মতো দেখতে পান। ভেবেছিলেন এটা হয়তো কোনো প্রকার ফোড়া বা চর্মরোগ। আবার এটাও ভেবেছেন, যেহেতু চা বাগানে কাজ করেন তাই কোনো বিষাক্ত পোকার কামড় হতে পারে। তবে শুরু থেকেই লক্ষ্য করেছেন, মুখের ওই স্থানে কোনো অনুভূতি বা চুলকানি নেই। জোরে চিমটি দিলেও কিছু অনুভব হয় না।
সপ্তাহখানেক পর কমলগঞ্জের ভানুগাছে কুষ্ঠ নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা হীড বাংলাদেশে যান রূপন। সেখানে চিকিৎসকরা তার কান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং কুষ্ঠ শনাক্ত হয়। তিনি সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে এক নাগাড়ে ৪৫ দিন চিকিৎসা নেন এবং ওষুধ খেতে থাকেন।
রূপনের কুষ্ঠ সংক্রমণ ছিল বেশি। সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতালে যখন তিনি ভর্তি হন, তখন তার পা আর পায়ের পাতায় ক্ষত ছিল। চিকিৎসকরা তার পায়ের তালুতে ড্রেসিং করেন এবং বিশেষ জুতা দেন চলাফেরার জন্য। বর্তমানে তার দুই পা ও ডান হাতে সমস্যা। তিনি আর চা পাতা তুলতে পারেন না। এমনকি ব্যথার কারণে ওই হাত দিয়ে কোনো কাজও করতে পারেন না। তার পায়ের তালুতেও অনুভূতি পুরোপুরি আসেনি। রূপনের ভাষ্য, ‘পায়ের তালুর কোথাও কোথাও একেবারেই অনুভূতি নেই। এমনকি বেলের কাটা ফুটলেও কিছু বুঝবো না। শীতকালে এই সমস্যা আরও বাড়ে।’
কমলগঞ্জের পাত্রখোলা চা বাগানের চা শ্রমিকের সন্তান পূর্ণিমা অলমিক (১৩)। প্রায় দুই বছর আগে অলমিকের মুখে ছোট একটি দাগ ভেসে ওঠে। প্রাথমিকভাবে জন্মদাগ বলেই মনে করেছিল পরিবার। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটা বড় হয়। সেখানে চুলকানি বা ব্যথা ছিল না। পরে তারও কুষ্ঠরোগ শনাক্ত হয়।
রূপন ও পূর্ণিমার মতো সিলেট বিভাগের সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ১৩৬টি চা বাগানেও কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ আছেন। আর চট্টগ্রাম বিভাগের ২৪টি চা বাগানে কুষ্ঠরোগ নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
লেপ্রোসি মিশন বাংলাদেশ ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগের তিন জেলায় ২ হাজার ৪৮০ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত করে এবং চিকিৎসা দেয়, যাদের অধিকাংশ এখন সুস্থ।
কুষ্ঠ নিয়ে হীড বাংলাদেশ ১৯৭৪ সাল থেকে সিলেট বিভাগে কাজ করছে। সংস্থাটির লেপ্রোসি প্রজেক্টের ইনচার্জ রাজেস দেবনাথ বলেন, ‘সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত যেসব রোগী পাই, তাদের বেশিরভাগই চা বাগানের মানুষ। ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর চা শ্রমিকদের মধ্যে ২৫০ থেকে ৩৫০ জন কুষ্ঠরোগী আমরা শনাক্ত করেছি।’
চা বাগানে কুষ্ঠ সংক্রমণ বেশি হওয়ার পেছনে অসচেতনতা ও কুষ্ঠ ধরা পড়ার পর ওষুধ সেবনে অনীহাকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়। এ ছাড়া, দারিদ্র্যও চা বাগান থেকে কুষ্ঠ নির্মূলের পথে অন্যতম বাধা।
রূপন ভূমিজ জানান, কুষ্ঠ থেকে সেরে উঠতে তার আরও এক বছর ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে তিনি সিলেটের কুষ্ঠ হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে দেওয়া ওষুধ সংগ্রহ করতে যাচ্ছেন না। বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতিতে দূরে কোথাও যেতে একজনকে সঙ্গে নিতে হয়। সিলেটের হাসপাতালে যাওয়া-আসায় দুজন মানুষের খরচ হবে অন্তত দুই হাজার টাকা। এই টাকা তিনি জোগাড় করতে পারছেন না।
শ্রীমঙ্গলে দ্য লেপ্রোসি মিশন বাংলাদেশের প্রজেক্ট অফিসার স্মিতা দাস বলেন, ‘কুষ্ঠরোগের সংক্রমণ এতো ধীরগতিতে হয় যে চা জনগোষ্ঠীর মানুষ প্রাথমিক অবস্থায় মনেই করেন না এটি একটি রোগ। শারীরিক অবস্থা খারাপ না হওয়া পর্যন্ত তারা চিকিৎসার খোঁজে আসেন না।’
২০১৭ সালে লেপ্রোসি মিশন চা বাগানে কাজ শুরু করার পর প্রথম দিকে অনেকে হাতে ঘা অথবা বাঁকা আঙ্গুল নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসতেন। কিন্তু কুষ্ঠ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ক্যাম্পেইন চালানোর ফলে বাগানের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে বলে জানান স্মিতা দাস।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, চা বাগানগুলোতে হাজারো চা শ্রমিক আছেন, যারা কাজের ব্যস্ততায় পায়ের তলার দিকে খেয়াল রাখতে পারেন না। ‘সব ধরণের অসুখের জন্যই তারা চিকিৎসকের কাছে যান, কিন্তু কুষ্ঠ হলে যান না।’
তিনি বলেন, ‘কুষ্ঠরোগের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম ডোজ ওষুধ খাওয়ার পরই জীবাণু সংক্রমণ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু চা বাগানের শ্রমিকরা নিয়ম মেনে ওষুধ খান না। ছয় মাসের ওষুধ দিলে দুই মাস পরই খাওয়া বন্ধ করে দেন।’
পূর্ণিমা অলমিকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শুরুতে হীড বাংলাদেশ তাকে সাসপেক্ট কুষ্ঠরোগী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং দুই মাসের ওষুধ দেয়। এক মাস ওষুধ খাওয়ার পর যখন তার মুখের দাগ অনেকটা কমে আসে তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে আর ওষুধ খেতে বারণ করেন। ওষুধ বন্ধ করার পরই পূর্ণিমার শরীরের বিবর্ণ দাগ বেড়ে যায়। পরে তিনি আবারো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
গবেষক ও সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক ফিলিপ গাইন চা বাগান ও চা শ্রমিকদের অবস্থা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তিন দশক ধরে কাজ করছেন। তিনি জানান, চা শ্রমিকদের অধিকাংশ লেবার লাইনের যে পরিবেশে বসবাস করেন, তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং মালিক তাদেরকে যে স্বাস্থ্যসেবা দেয় তা একেবারেই সামান্য। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে তাদের স্বাস্থ্যের উপর।
তিনি বলেন, ‘চা শ্রমিকদের একটা বড় অংশই অপুষ্টির শিকার এবং বড় কোনো অসুখ হলে রোগ নির্ণয় করা কঠিন। কারণ চা বাগানগুলো অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। এ ছাড়া, দূরত্ব ও দারিদ্রের কারণে চা শ্রমিকদের অনেকেই বাগানের বাইরের হাসপাতালে যেতে পারেন না। ফলে কুষ্ঠর মতো রোগ হলে অনেকে প্রথম দিকে জানতেই পারেন না কী হয়েছে।’
কুষ্ঠ কোনো বংশগত রোগ নয়, এটি মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রে নামে পরিচিত এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, যা প্রান্তিক স্নায়ু আক্রান্ত করে। এই রোগের সংক্রমণে রোগী মারা না গেলেও চিকিৎসা নিতে দেরি করলে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। চামড়ায় এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়, তাই প্রাথমিকভাবে এটিকে চর্মরোগ মনে করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ মূলত একই গোত্রভুক্ত। দুটিই সংক্রামক ব্যাধি, যা হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। কিন্তু যক্ষ্মার জীবাণু আক্রমণের কয়েক সপ্তাহ পরেই প্রকাশ পায়, আর কুষ্ঠর লক্ষণ প্রকাশ পেতে কয়েক বছর লেগে যায়।
চা শ্রমিকদের মধ্যে রোগটি কেন এতো বেশি? এ বিষয়ে ফিলিপ গাইন বলেন, ‘চা শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি-বঞ্চিত একটি শ্রমজীবী গোষ্ঠী। দারিদ্র্য, নিম্নমানের আবাসন, লেবার লাইনের ঘিঞ্জি পরিবেশ, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে এ রোগের ব্যাকটেরিয়া নির্ণয়ের আগেই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে প্রবেশ করে।’
তিনি বলেন, ‘চা বাগানে কুষ্ঠরোগ কমিয়ে আনার জন্য সম্পূর্ণভাবে ভূমিহীন, ন্যায্য মজুরি-বঞ্চিত ও নাগরিক সুবিধা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করা দরকার। তাদের জন্য ন্যায্য মজুরি, পুষ্টি ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা এবং শোভন আবাসন নিশ্চিত করা আবশ্যক।’
দেশব্যাপী কুষ্ঠ-চিত্র
কুষ্ঠরোগ সংক্রমণের দিক থেকে মৌলভীবাজার জেলাকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ জেলায় প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৫ জন বা তার বেশি সংখ্যক কুষ্ঠরোগী রয়েছে। প্রতিবেদনে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ অন্য জেলাগুলো হলো পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, মেহেরপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবান।
‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ জেলাগুলো হলো লালমনিরহাট, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, হবিগঞ্জ ও খাগড়াছড়ি। এসব জেলায় প্রতি ১ লাখে ২ থেকে ৫ জন কুষ্ঠরোগী রয়েছে। আর একেবারেই কুষ্ঠরোগী পাওয়া যায়নি এমন জেলার মধ্যে আছে ঢাকা (সিটি করপোরেশন বাদে), রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, নড়াইল, বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর।
বাকি জেলাগুলোতে কুষ্ঠরোগী আছে, তবে সংখ্যায় কম—প্রতি লাখে ২ জনেরও কম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালে কুষ্ঠ সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশকে বিশ্বের ১২টি দেশের মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেখানে বছরে ১ হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে নতুন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়। সংস্থাটি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ থেকে কুষ্ঠ নির্মূলের ঘোষণা দিলেও তার অর্থ ছিল, প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে একজনেরও কম রোগী রয়েছে।
দ্য লেপ্রোসি মিশন বাংলাদেশের হেড অব অপারেশনস জিপথো বৈরাগি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই ঘোষণা কুষ্ঠরোগ নির্মূলের পথে একটি বড় ধাপ। কিন্তু ১৯৯৮ সালে সংস্থাটির এই ঘোষণার ফলে কুষ্ঠরোগ প্রতিরোধে বরাদ্দ ও মনোযোগ কমে গেছে। এতে নতুন করে রোগটি দেখা যাচ্ছে।’
সরকারের জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে প্রতি বছরই দেশে নতুন করে গড়ে অন্তত ৩ হাজার মানুষ কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ১৯৯৮ সালে সারা দেশে ২ হাজার ২৬৫ শিশুসহ কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৩৭১ জন। ২০২২ সালে নতুন কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা কমে ১৪৮ শিশুসহ ২ হাজার ৯৮৮ হয়। দেশে কুষ্ঠরোগ শূন্যে নামিয়ে আনতে সরকারিভাবে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্লান ফর লেপ্রোসি ইন বাংলাদেশ ২০২৩-২০৩০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
কুষ্ঠ নির্মূলে দ্য লেপ্রোসি মিশন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। দেশের ৪০টি জেলায় সংস্থাটির কার্যক্রম রয়েছে এবং নীলফামারী জেলায় কুষ্ঠরোগীদের সেবায় ১১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল পরিচালনা করছে। এই হাসপাতালে অঙ্গহানির শিকার কুষ্ঠরোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্ঠরোগকে ঘিরে সমাজে এখনো অনেক ভ্রান্ত ধারণা, কুসংস্কার ও ঘৃণা প্রচলিত আছে। এ ব্যাপারে জিপথো বৈরাগি বলেন, ‘এ ধরণের ভ্রান্ত ধারণার জন্ম হয়েছে মূলত ব্রিটিশ আমলের “লেপার্স অ্যাক্ট ১৮৯৮” এর কারণে। এই আইনের আওতায় কুষ্ঠরোগীদের ওপর নানা ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপিত ছিল, যার মধ্যে অন্যতম কুষ্ঠরোগীদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, কিছু পেশায় কাজ নিষিদ্ধ করা ও গণপরিবহনে উঠতে না দেওয়া। ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইনটি ২০১১ সালে সরকার বাতিল করে।’
সরকারি হিসাবে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা যেখানে প্রতি ৫৬ হাজার ৮৩৬ মানুষের মধ্যে একজন, সেখানে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের চা বাগানগুলোতে চা জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে প্রতি ১ হাজার ৭০০ জনে কুষ্ঠরোগী একজন। এ হিসাবের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ২৪টি চা চাগান অন্তর্ভুক্ত নয়। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬০টি চা বাগানে ৫ লাখের মতো চা জনগোষ্ঠীর মানুষের বাস। এদের মধ্যে ৭৫ হাজারের মতো চট্টগ্রাম বিভাগে বাস করে। চা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে ১ লাখ ৪০ হাজারের মতো মানুষ। চা বাগানে কুষ্ঠরোগের বিস্তার নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ২০২৩ সালে একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে যে চা বাগানে কুষ্ঠরোগের হার পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্টের লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, ‘চা বাগানে কুষ্ঠরোগের বিস্তার রোধে প্রথম চাই পুষ্টির অবস্থা উন্নত করে চা জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি কুষ্ঠরোগী দ্রুত শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। তাদের জীবনমান ও আবাসন উন্নত করাও গুরুত্বপূর্ণ।’
ফাহমিদা রহমান: সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) গবেষক।