বেড়েছে আদা-রসুন-পেঁয়াজের দাম, কমেছে ক্রেতা

Date:

এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের বাজারে বেড়েছে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও আলুর দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, ডিম, তেল ও মাংসের দাম। সরবরাহভেদে ওঠা-নামা করছে শাক-সবজির দামও।

তবে জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে কমেছে কেনাবেচার পরিমাণ। মাসের খরচেও সমন্বয় করতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বরিশাল বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী মো. জাকির হোসেন জানান, মানভেদে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪৮-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৪-৪৮ টাকা।

আরেক বিক্রেতা মোহাম্মদ আনিস জানান, আদা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ টাকায়। দুদিন আগেও এর দাম ছিল ৯৫-১০০ টাকা। বড় রসুন ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট রসুন পাওয়া যাচ্ছে ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে।

দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এমনিতেই ক্রেতা কমে গেছে। কিনতে এসেও দাম শুনে চলে যাচ্ছেন অনেকে। আদা-রসুনের দাম আরও বাড়তে পারে। আগের তুলনায় বেচা-কেনা কমেছে।’

খুচরা বাজারে লাল ও সাদা দুই ধরনের আলুই প্রতি কেজি ২০-২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন ভুঁইয়া। গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়েছে।

নিউ ইস্কাটনের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনে উপায় নেই। এসব তো লাগবেই। মাসের বাজেট মেলাতে অন্য খাতগুলোতে খরচ কমাতে হচ্ছে।’

মাসিক সঞ্চয়ের পরিমাণ কমিয়ে সংসার খরচ সমন্বয় করছেন বলেও জানান তিনি।

তবে এ সপ্তাহে চাল, ডিম ও মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪৫ ও সাদা ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা সাইফুল গাজী। ছোট ও বড় সাইজের ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা ও মাঝারি সাইজেরগুলো ১৭০ টাকায় বিক্রি করছেন বাংলাদেশ চিকেন ব্রয়লার হাউসের মো. সোহেল। তার দোকানে সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা ও হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড ২৯০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। খাসি ১ হাজার ২৫০ ও ছাগল ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ফ্রেশ খাসির মাংসের দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. বাবুল।

চালের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বিক্রি কমেছে বলে ডেইলি স্টারকে জানান জনপ্রিয় রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আমির হোসেন। কেজিপ্রতি বিআর আটাশ ৪৭-৪৮ টাকা, মিনিকেট ৬৮-৬৯ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪-৯২ টাকা ও চিনিগুড়া ১৮৯-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দোকানভেদে দামে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে।

দেশি মসুর ডাল ১৫০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৯০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা, বুট ১২০ টাকা কেজি ও পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে সবজির দামে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা ওঠা-নামা লক্ষ্য করা গেছে। চিচিঙ্গা ২৫-২৬ টাকা, ধুন্দল ২০-২২ টাকা, ঢেঁড়শ ৩০-৩২ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৪-২৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে পাইকারি বাজারে। তবে খুচরা বাজারে এসব সবজি কেজিপ্রতি ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিসিপশনিস্ট দিলারা খাতুন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বেতন বাড়েনি। কিন্তু বাজারের খরচ শুধু বেড়েই চলেছে। হিসাব মেলাতে বাধ্য হয়ে কেনাকাটার পরিমাণ কমাতে হয়েছে।’

Share post:

Popular

More like this
Related

‘সবার একই প্রশ্ন, অভিনয়ে নিয়মিত নই কেন?’

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবার নাটকে ফিরছেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী...

আবুধাবিতে ফরাসি নৌ-ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

ইরানের ড্রোন হামলায় আবুধাবিতে একটি ফরাসি নৌ-ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা...

৫ ম্যাচে ৮ উইকেট: বিগ ব্যাশে রিশাদ-ঝলক

দেশে বিপিএলের উন্মাদনা চললেও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন সুদূর...

খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন: ডা. জাহিদ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে...