মিয়ানমারে প্রথম ধাপের ভোটে ৮৭ শতাংশ আসনে বিজয়ী সেনা সমর্থিত দল

Date:

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার অধীনে আয়োজিত হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। দেশের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন আয়োজন করে জেনারেল  মিন অং হ্লাইং-এর সরকার। 

ওই নির্বাচনের প্রথম ধাপে সেনা-সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউএসডিপি জয়ী হয়েছে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রায় ৮৭ শতাংশ আসনে জিতেছে দলটি।

গতকাল সোমবার এই তথ্য জানায় মিয়ানমারের গণমাধ্যম ইরাবতি ও বার্তাসংস্থা এএফপি।

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্যুর মাধ্যমে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি’র  নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে।

অবশেষে প্রায় পাঁচ বছর পর আয়োজিত এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের পথে’ ফিরে আসার উদ্যোগ হিসেবে দেখাতে চাইছে সামরিক জান্তা। কয়েকটি ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

ইতোমধ্যে পশ্চিমা কূটনীতিক ও গণতন্ত্রকামীরা এই ভোট নাকচ করেছেন। তারা এর বৈধতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মত দেন, এটি সামরিক শাসনেরই আরেক রূপ হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ, এই নির্বাচন ‘নতুন বোতলে পুরনো মদ’ ছাড়া আর কিছুই হবে না।

যুক্তি হিসেবে তারা অং সান সু চি’র কারাদণ্ড, তার দল বিলুপ্ত করা, ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়ন ও ভোটে সেনাবাহিনীর মিত্রদের আধিপত্যের কথা উল্লেখ করেন।

ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) প্রত্যক্ষভাবে সেনাবাহিনীর প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে। সোমবার প্রকাশিত ফলে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২ আসনের মধ্যে ৮৯টিতে জয়লাভ করে ইউএসডিপি। 

২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের ভোটে অন্তর্ভুক্ত ১০২ আসনের ৮৯টি জিতে নিয়েছে ইউএসডিপি। বাকি আসনগুলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি দল জিতে নেয়।

বিশ্লেষক ও গণতন্ত্র নিরীক্ষকরা ইউএসডিপিকে সামরিক বাহিনীর আজ্ঞাবহ দল হিসেবে বিবেচনা করেন। দলটির জ্যেষ্ঠ পদে অসংখ্য সাবেক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আছেন।

২৫ জানুয়ারি ভোটের তৃতীয় ও সর্বশেষ ধাপের পর চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে।

তবে ভোটের ফল যাই হোক, নিম্নকক্ষের ২৫ শতাংশ ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধানে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০২০ সালের নির্বাচনে সু চি’র ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কাছে ভরাডুবি হয় ইউএসডিপি। তবে সামরিক বাহিনী ওই ভোটের ফল মেনে নেয়নি। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে অভ্যুত্থান ঘটায় সেনাবাহিনী।

এনএলডিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং সু চি (৮০) বহির্জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন পার করছেন।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ থেকে পরবর্তীতে সশস্ত্র সংগ্রাম দানা বেঁধে উঠে। ইতোমধ্যে আরাকান আর্মিসহ একাধিক বিদ্রোহী সংগঠন মিয়ানমারের বেশ বড় একটি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ সরকারের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় ভোট প্রতিহত করার অঙ্গীকার করে। এ প্রসঙ্গে জান্তাও মেনে নেয়, দেশের সব অঞ্চলে নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব নয়।

Share post:

Popular

More like this
Related

কঠোরতার পথে শিক্ষা, নতুন দিগন্তের সন্ধানে পাবলিক পরীক্ষা

পাবলিক পরীক্ষাকে আরও কঠোর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার উদ্যোগে বাংলাদেশের...

৩ সিনেমায় ইন্তেখাব দিনার

অভিনয়শিল্পী ইন্তেখাব দিনার। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ে জড়িত আছেন। একসময়...

ট্রাম্পকে পাল্টা হুমকি দিয়ে পেত্রো বললেন, প্রয়োজনে ‘অস্ত্র হাতে নেব’

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ও তার সরকারকে হুমকি দিয়ে...

টাকার-ডোহেনির জুটি ভেঙে তাইজুলের জোড়া আঘাত

দিনের প্রথম ঘণ্টায় বাংলাদেশকে হতাশ করে দ্রুত রান আনলেন...