সুচন্দা আপার কাছ থেকে এখনও ঈদ সালামি পাই: ববিতা

Date:

দেশ-বিদেশে সমানভাবে পরিচিত একটি নাম ফরিদা আক্তার ববিতা। আজীবন সম্মাননা, একুশে পদক এবং একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নায়িকা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

কালজয়ী এই চলচ্চিত্র শিল্পী ছোটবেলার ঈদের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

ববিতা জানান, ঈদের সময় সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে তার একমাত্র ছেলে অনীকের কথা। অনীক বর্তমানে কানাডায় থাকেন।

‘আমি বছরের একটা সময় ওর কাছে গিয়ে থাকি। কিন্তু এবার আমরা দুজন দুই জায়গায়। তাই ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ওকে তত বেশি মনে পড়ে,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ঈদের দিন কিংবা তার কয়েক দিন আগে থেকেই ছেলেকে খুব মিস করেন।

‘যাদের সন্তান দূরে থাকে, তারা বিষয়টি বেশি অনুভব করতে পারেন। আমিও খুব করে অনুভব করি,’ বলেন ববিতা।

অনীকের পছন্দের খাবারের কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী।

‘আমার হাতের পোলাও আর কোরমা অনীক খুব পছন্দ করে। আমি যখন কানাডায় যাই, নিজেই বাজার করি, রান্না করি। আমার হাতের সেমাইও ওর খুব পছন্দ। গরুর মাংসও খেতে ভালোবাসে,’ বলেন তিনি।

ছোটবেলার ঈদের স্মৃতি প্রসঙ্গে ববিতা জানান, সেই সময়ের ঈদ ছিল সবচেয়ে আনন্দের।

‘ছোটবেলা যেমন সুন্দর, সেই সময়ের ঈদও ছিল ভীষণ সুন্দর। অনেক মজার ছিল। ওইসব দিনের কথা কখনো ভুলতে পারব না,’ বলেন তিনি।

ছোটবেলার ঈদ সালামির কথা মনে করে ববিতা বলেন, ‘ছোটবেলায় ঈদের দিনে আমরা সালামি পেতাম, আর এখন সালামি দিতে হয়। তখন দাদা-দাদি, বাবা, মামা—সিনিয়ররা সবাই সালামি দিতেন। সেই টাকা দিয়ে নানা মজার খাবার কিনে খেতাম। এখন তো আমাকেই দিতে হয়—ভাগ্নি আছে, কাছের আপনজন আছে, সবাইকে দিতে হয়।’

তিনি মজা করে বলেন, ‘ওরা সালামি পেয়ে গুনে গুনে দেখে কে কত দিল। তাই আমাকে একটু বেশিই দিতে হয়।’

তবে এখনো তিনি সালামি পান কিনা—এ প্রশ্নে ববিতা হেসে ফেলেন। বলেন, ‘পাই। সুচন্দা আপা তো আমার বড়, তিনি এখনো আমাকে সালামি দেন। খুব ভালো লাগে বিষয়টা।’

ঈদের কথা উঠলেই নস্টালজিক হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। বলেন, ‘ছোটবেলায় ঈদ মানেই নতুন জামা। ঈদের কয়েক দিন আগে কাপড় দিয়ে জামা বানাতে দিতাম। দর্জি যখন কাপড় কেটে জামা বানাত, তখন আমি সেখানে বসে থাকতাম। পরে বাসায় এনে লুকিয়ে রাখতাম, ঈদের দিন পরতাম। এই মধুর স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ে।’

ববিতা জানান, ঈদের পুরোনো স্মৃতিগুলো তাকে নস্টালজিক করে তোলে।

বলেন, ‘ঈদ এলে বাবা-মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। আর আমার ছেলে অনীক দূরে আছে, তাকেও খুব মনে পড়ে।’

ঈদের সময় এখন কীভাবে কাটে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে সুচন্দা আপা ও চম্পা আমার বাসায় আসে। ওদের সন্তানরাও আসে। আমিও কখনো ওদের কাছে যাই। সবার সঙ্গে মিলেই ভালো সময় কাটে। এবারও তেমনটাই হবে বলে আশা করছি।’

Share post:

Popular

More like this
Related

প্রতি ঈদে কেন চামড়ার দাম কমে যায়

ঈদের ছুটি শেষে মানুষ যখন রাজধানীতে ফিরছেন, তখন ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা...

‘ফুটবল মার্কা আসলো কোথা থেকে?’— যশোর বকচরে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে চরম অনিয়ম

যশোরের বকচরে অবস্থিত ‘পুরাতন লোহা ও মোটর ব্যবসায়ী মালিক...

হলে হলে ছুটছেন তারকারা

অনেক দিন ধরেই ঈদে বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পাওয়ার...

দ. কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু’র ২৩ বছর কারাদণ্ড

সামরিক আইন জারিতে ভূমিকার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে...