ক্ষুব্ধ-ব্যথিত রামেন্দু মজুমদার ও তারিক আনাম

Date:

শিশু রামিসার নির্মম হত্যাকাণ্ড নাড়া দিয়েছে সারা দেশকে। তার সঙ্গে ঘটা অপরাধ মেনে নিতে পারছেন না কেউই। এই নিষ্ঠুরতা ও বিকৃত মানসিকতার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের দুই প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও তারিক আনাম খান।

‘সমাজে বিকৃত মানসিকতা জেগে উঠেছে’

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে নাট্যজন ও নির্দেশক রামেন্দু মজুমদার বলেন, সমাজে এখন বিকৃত মানসিকতার কিছু মানুষ জেগে উঠেছে। এই মানুষেরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এরা কেন এমন হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত সমাধান করা জরুরি।

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। রামিসা একটা ফুলের মতো শিশু ছিল। ফোটার আগেই তাকে ঝরে যেতে হলো। অপরাধীর এমন শাস্তি হোক, যাতে আর কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।’

একসময় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের শীর্ষ পদে থাকা রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আমাদের আরও গভীরে যাওয়া উচিত। মানুষ এখন বই পড়া কমিয়ে দিয়েছে, দূরে সরে যাচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সুন্দর কাজগুলো থেকে। শিশুরা যদি খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে ওঠে, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর হবে।’

প্রযুক্তির আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মোবাইল আমাদের অনেক কিছু থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা একা হয়ে যাচ্ছি, আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছি। একধরনের অস্থিরতা কাজ করছে মানুষের মধ্যে, অনেকেই অমানবিক হয়ে উঠছে। সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সমাজের গভীরে গিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে।’

‘রামিসার বাবার মুখটা দেখে সহ্য করি কী করে’

অভিনেতা ও নির্দেশক তারিক আনাম খান শিশু রামিসার মৃত্যুতে স্তব্ধ। ঘটনাটিকে ‘ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আক্ষেপ করে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘শিশু হত্যা এক ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা। শিশুরা কোমল, সরল। তাদের জীবন যদি এভাবে শেষ হয়ে যায়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। আছিয়া থেকে রামিসা—আমরা আসলে কোন সমাজে চলে গেলাম?’

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বারবার রামিসার ছবিটা দেখছি আর ভেতরটা কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে। কী সুন্দর একটা মুখ! এই বয়সে এমন ছবি দেখে কতটা কষ্ট হচ্ছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। রামিসার বাবার মুখটা দেখে সহ্য করি কী করে? একজন বাবা কতটা অসহায় হলে অমন করে কথা বলেন? বাবা হিসেবে তিনি যা হারিয়েছেন, তা কি আর ফিরে পাবেন?’

নাট্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আমাদের সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই সমাজকে ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের সবার। সম্মিলিত চেষ্টা ছাড়া এই অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়। হত্যা, ধর্ষণ, বলাৎকার—এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে প্রতিটি অপরাধের সঠিক ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

Share post:

Popular

More like this
Related

এলডিসি উত্তরণে ৩ বছর সময় বাড়াতে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাইলো বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য ২০২৯...

শান্তি আলোচনায় অনড় অবস্থানে রাশিয়া-ইউক্রেন, অগ্রগতি দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায়...

আমি চাই তাসকিন আমার গতির রেকর্ডটা ভেঙে দিক: শোয়েব

বিপিএলের এই মৌসুমে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রত্যাশা কি? প্রশ্নটা...

মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর হাসিনাকে ফেরত চেয়ে আবারও ভারতকে চিঠি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত...