রেকর্ড সৃষ্টি করে ৪৯২ কোটি টাকায় বিক্রি হলো ফেরারির ইলেকট্রিক গাড়ি ‘লুচে’

Date:

বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারির প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ির নাম ‘লুচে’। গত মে মাসে এটি বাজারে আনার ঘোষণা দেয় ইতালীয় প্রতিষ্ঠানটি। 

চলতি বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে গাড়িগুলো ভোক্তাদের কাছে ডেলিভারি দিতে শুরু করবে ফেরারি।

ইতোমধ্যে লুচের একটি বিশেষায়িত মডেল নিলামে ৪ কোটি ডলারে বিক্রি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটাই ওই মডেলের প্রথম ‘চ্যাসিস’।

চ্যাসিস জিরো লুচে গাড়িটির দাম বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হারের বিবেচনায় প্রায় ৪৯২ কোটি টাকার সমতুল্য।

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

নিলামে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির মধ্যে এটিই এখন সবচেয়ে দামি গাড়ি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

বিশেষভাবে তৈরি ফেরারি লুচের চ্যাসিস জিরোর জন্য রেকর্ড দর হাঁকেন এক নাম প্রকাশ না করা ক্রেতা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ফেরারির এই ইলেকট্রিক গাড়ির ডিজাইনকে ‘বুদবুদের’ সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এটি ফেরারি গাড়ির প্রথাগত কৌণিক ডিজাইন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদলে তৈরি।

লুচের এই ভিন্নধর্মী ডিজাইনের তথ্য প্রকাশের পর ফেরারির অনেক ভক্ত হতাশা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।

মন্টেরি কার উইক যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরিতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত একটি বিখ্যাত গাড়ি উৎসব, যেখানে দুর্লভ ও সংগ্রহযোগ্য গাড়ির প্রদর্শনী, নিলাম ও বিভিন্ন গাড়ি-সংক্রান্ত আয়োজন হয়।

চলতি বছরের উৎসবে লুচের চ্যাসিস জিরো গাড়িটি দাতব্য নিলামে ওঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে এর দাম ১১ লাখ ডলার অনুমান করা হয়েছিল।

গাড়ি নিলাম প্রতিষ্ঠান আরএম সোথবি জানিয়েছে, ওই মূল্যের তুলনায় অন্তত ৩৬ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে গাড়িটি।

রোববার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে ফেরারি ইউএসএ লিখেছে, ‘নিলামে একের পর এক সম্ভাব্য ক্রেতা দর হাঁকাতে থাকেন। এরপর ইতিহাস তৈরি হয়।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এই বিক্রি ‘নিলামে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড’ তৈরি করেছে।

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ শিক্ষামূলক বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তার জন্য দ্য ফেরারি ফাউন্ডেশনে দেওয়া হবে।

ইতালীয় ভাষায় লুচে শব্দের অর্থ ‘আলো’। এই গাড়ির চার চাকায় চারটি বৈদ্যুতিক মোটর যুক্ত করেছে ফেরারি। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, ‘এটি ভিন্নধর্মী ক্রেতাদের জন্য ফেরারির একটি ভিন্নধর্মী মডেল।’

আরএম সোথবি জানিয়েছে, ‘চ্যাসিস ০’-এ মুক্তার মতো বিশেষ আধা-চকচকে ফিনিশিং ব্যবহার করা হয়েছে।

যার ফলে গাড়ির বাইরের অংশে আলোর মাত্রা অনুযায়ী এর রঙ বদলে যায়। আলো পড়লে রঙের প্রতিফলন সবুজ থেকে বেগুনিতে পরিবর্তিত হয়।

গাড়িটির ভেতরের অংশেও বিশেষভাবে তৈরি উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে রয়েছে ‘পার্লা লে মানস’ ধাতব চামড়ার আসনসজ্জা এবং সাদা পটভূমির মধ্যে স্বতন্ত্র কালো উপাদান।

নিলাম শেষে গাড়িটি উত্তর ইতালির মারানেলো শহরে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেখানেই গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রেতার কাছে গাড়িটি হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৬ সালের শেষ তিন মাসে সাধারণ ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করবে লুচে। তাদের জন্য দাম ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বা ৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
 

Share post:

Popular

More like this
Related

নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারের ১৮০ দিনে প্রকাশিত ই-বুকে যা আছে

সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক...

কবিতার ‘বনলতা সেন’ সিনেমায় কেমন হবে

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আলোচিত কবিতা ‘বনলতা সেন’। কবি জীবনানন্দ...

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে ৮ মাসে নিহত ৯০০

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ভাওয়ালপুরের ঘটনা। গত নভেম্বরে সেখানে জুবাইদা...

বিগ ব্যাশে অভিষেকে আঁটসাঁট রিশাদ 

দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিগ ব্যাশের আসরে...