ইরানে শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

Date:

ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন। এটি গত মাসে দেশজুড়ে সংঘটিত আন্দোলনের পর প্রথম বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভ।

বিবিসির যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে শনিবার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। পরে সরকারপন্থী সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হতে দেখা যায়।

এদিন তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্ররা বিক্ষোভ করেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও একটি বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। তারা জানুয়ারির গণবিক্ষোভে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে তার সামরিক শক্তি জোরদার করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার কথা বিবেচনায় রেখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্রদের সন্দেহ, যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার দিকে এগোচ্ছে। তবে তেহরান সবসময় এ ধরনের দাবি অস্বীকার করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তারা গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করেন। তারা বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনার আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।

যদিও অগ্রগতির খবর এসেছে, তবুও ট্রাম্প বলছেন, আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ববাসী জানতে পারবে ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছেন। এক সময় তিনি তাদের উৎসাহ দিয়েছেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে ‘সহায়তা পৌঁছে যাবে’।

বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, শত শত শিক্ষার্থী শনিবার নতুন সেমিস্টারের শুরুতে শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলেন। তাদের অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা।

বিক্ষোভে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নানা সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সরকারপন্থী অনেকে আশেপাশে অবস্থান করছেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

রাজধানীর শহীদ বেহেশতি ইউনিভার্সিটিতেও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। তেহরানের আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে বিক্ষোভের ভিডিও সামনে এসেছে, যাতে বিক্ষোভকারীদের সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে শোনা যায়।

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর সামনে এসেছে। আরও কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। রোববারও কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

এটি এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয় যে কোনো বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না।

ইরানে গত মাসের বিক্ষোভ-আন্দোলনের শুরুটা হয় অর্থনৈতিক সংকটের জেরে। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এটি ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে সবচেয়ে বড় আন্দোলনে পরিণত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানায় ওই আন্দোলনে অন্তত ছয় হাজার ১৫৯ জন নিহত হন। এর  মধ্যে পাঁচ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ শিশু এবং ২১৪ জন সরকারপন্থী। সংস্থাটি বলছে, তারা আরও ১৭ হাজার লোকের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ গত মাসের শেষ দিকে জানায়, আন্দোলনের সময় তিন হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা সাধারণ মানুষ। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘দাঙ্গাবাজদের’ হামলায় তারা নিহত হয়েছেন।

ইরানে এমন সময়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হলো, যখন তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Share post:

Popular

More like this
Related

দীর্ঘদিন পর এক অনুষ্ঠানে শাকিব খান-পূর্ণিমা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও পূর্ণিমা দীর্ঘদিন...

১৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে ইমরান খানের পরেই কামিন্স

অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন অস্ট্রেলিয়ার...

ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেলেন ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ৩৩ কর্মকর্তাকে একযোগে উপমহাপরিদর্শক...

খুচরা যন্ত্রাংশ ঘোষণায় আনা লেক্সাস-বিএমডব্লিউসহ ৪ গাড়ি জব্দ

ব্যবহৃত গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ ঘোষণার আড়ালে আমদানি করা বিলাসবহুল...