ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে সুনাম, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির জন্য টেমেনোস টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার সরবরাহ ও বাস্তবায়নের কাজে ফ্লোরা টেলিকম চুক্তিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি আরও ১০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়। অগ্রণী ব্যাংকের ৯৭৯টি শাখায় টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সিস্টেম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পেয়ে আসছেন।
বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আধুনিক সফটওয়্যারকে নিয়মিত হালনাগাদ ও উন্নত সংস্করণে নেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে অগ্রণী ব্যাংকে ব্যবহৃত টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আপগ্রেডেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। প্রচলিত প্রকিউরমেন্ট বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২১ সালের মার্চ মাসে অগ্রণী ব্যাংক বিদ্যমান টি-২৪ সফটওয়্যারকে সর্বশেষ সংস্করণে আপগ্রেড করার জন্য ফ্লোরা টেলিকমের অনুকূলে কার্যাদেশ প্রদান করে। কার্যাদেশে বর্ণিত শর্তাবলি অনুসরণ করে একই বছরের এপ্রিল মাসে অগ্রণী ব্যাংক ও ফ্লোরা টেলিকমের মধ্যে যথাযথ নিয়মে চুক্তি সম্পাদিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একটি টেলিভিশন এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩১২ কোটি খরচও কাজ করে না সফটওয়্যার, ফ্লোরা টেলিকমকে ৯১ কোটি টাকার সুবিধা দেয় অগ্রণী ব্যাংক” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ফ্লোরা টেলিকম উক্ত প্রতিবেদনকে অত্যন্ত দুঃখজনক, বিভ্রান্তিকর, একপেশে, অতিরঞ্জিত এবং প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে।
প্রতিবেদনটিতে পর্যাপ্ত ও যাচাইযোগ্য তথ্য উপাত্ত কিংবা প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন না করেই দাবি করা হয়েছে যে, অগ্রণী ব্যাংক ফ্লোরা টেলিকমকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ায় ৯১ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, ফ্লোরা টেলিকমের ৪৪ শতাংশ কর অগ্রণী ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ফ্লোরা টেলিকম স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ওই সময় ডলারের মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে পরবর্তীতে প্রায় ১২৩ টাকায় উন্নীত হয়। অন্যদিকে ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় গ্রহণ করলেও টেমেনোসের প্রাপ্য অর্থ মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে টেমেনোসের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ পরিশোধে ফ্লোরা টেলিকমকে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বহন করতে হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক চ্যালেঞ্জের প্রভাব প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপরও পড়ে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও ফ্লোরা টেলিকম প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং চুক্তিবদ্ধ দায়িত্ব ও কার্যপরিধি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও কার্যাদেশের আওতায় নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিদ্যমান রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির আওতায় অগ্রণী ব্যাংককে টি-২৪ সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এ রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির মেয়াদ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে।
ফ্লোরা টেলিকম মনে করে, একটি চলমান প্রযুক্তি প্রকল্পের ব্যয়, কার্যক্রম, চুক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং সফটওয়্যারের কার্যকারিতা সম্পর্কে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে একতরফা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য প্রচার করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো বৃহৎ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি প্রকল্প সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রকল্পের চুক্তিগত ও কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্লোরা টেলিকমের আরও বক্তব্য, প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও বক্তব্য পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও স্পষ্টীকরণ প্রকাশের আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফ্লোরা টেলিকম সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ ও তথ্য যাচাই করার জন্যও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড তার দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবসায়িক সুনাম, পেশাদারিত্ব ও সততার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক, ব্যবসায়িক অংশীদার, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আমাদের বিনীত আহ্বান, যাচাইবিহীন, একপেশে ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ বা প্রচারণার কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করুন এবং ফ্লোরা টেলিকমের প্রতি আপনাদের দীর্ঘদিনের আস্থা ও সমর্থন অব্যাহত রাখুন।
ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।
