সহশিল্পীদের চোখে অভিনেতা শামস সুমন

Date:

নব্বই দশকে ক্যারিয়ার শুরু করেন টেলিভিশন নাটকের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন। মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। 

গতকাল ১৭ মার্চ জীবনের মায়া ত্যাগ করেন তিনি।

শামস সুমনকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেছেন তার সহশিল্পীরা।

শামস সুমনের হঠাৎ মৃত্যুতে প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছি। সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে, কিন্তু এভাবে যাওয়াতে খারাপ লেগেছে। খুব কষ্ট পেয়েছি। কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না। বারবার তার কথা মনে পড়ছে। এত হাসিখুশি মানুষ ছিলেন! 

যে কোনো আড্ডায় কিংবা শ্যুটিংয়ে শামস সুমন থাকলে পরিবেশটা অন্যরকম হয়ে যেত। পরিবেশটা আনন্দময় হয়ে যেত। সবাইকে আনন্দে মাতিয়ে রাখতেন। অনেক গুণ ছিল তার।

অভিনয় করতে গিয়ে কত শত স্মৃতি আমাদের। সেইসব স্মৃতি ভুলি কেমন করে? সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি, শামস সুমন যেন জান্নাতবাসী হন। দোয়া করা ছাড়া কিছুই করতে পারব না। 

মারা যাবার দুই মাস আগেও অভিনয় শিল্পী সংঘের কার্যালয়ে দেখা হয়েছিল, ওটাই যে শেষ দেখা হবে তা কি জানতাম? ওপারে ভালো থাকুক সহশিল্পী ও কাছের মানুষটি।

শামস সুমনের সঙ্গে আমার অসংখ্য স্মৃতি জমে আছে। সেসব স্মৃতিগুলো এক এক করে মনে পড়ছে। কী বলব? কী বলার আছে? মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছি তার চলে যাওয়াতে।

আমরা আসলে শিল্পের পথে হেঁটেছি। আমরা শিল্প বন্ধু। বিটিভির নাটকে আমরা দুজনে একসাথে অভিনয় করেছি। কত আড্ডা দিয়েছি জীবন চলার পথে। বড় কথা হচ্ছে, শামস সুমন সবার প্রিয় ছিলেন। ছোট বড় সবার প্রিয় হওয়া কঠিন, কিন্ত তিনি ছিলেন। কোনোদিন কারও বিরুদ্ধে একটি কথাও বলতে দেখিনি। 

আড্ডায় সুমন থাকা মানে আনন্দ আর হাসি। সুমন থাকলে কারো মন খারাপ থাকত না। এই মানুষটি অভিনয় জানতেন, অভিনয় ভালোবাসতেন। আবৃত্তির প্রতিও দারুণ ভালোবাসা ছিল। এমন কোনো সপ্তাহ নেই চ্যানেল আইয়ের অফিসে আমাদের দেখা হতো না, গল্প হতো না।

প্রিয় মানুষটি এত দ্রুত হারিয়ে গেলেন! তার মৃত্যুর খবর শুনে গতকাল হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলাম। প্রিয় মুখটি ভুলতে পারছি না। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।

সত্যিই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে প্রিয় মানুষ, প্রিয় শিল্পী শামস সুমন ভাই বেঁচে নেই। তার মৃত্যুর খবর শোনার পর প্রতি মুহূর্তে এই কথাটিই মনে পড়ছে। আসলেই জীবন কত ছোট! জীবন কত দ্রুত ফুরিয়ে যায়! কেউ জানি না কার কখন ডাক আসবে? 

সুমন ভাই আপনার আড্ডা মিস করব, আপনার সুন্দর অভিনয় মিস করব আর আপনার হাসিমুখটা মিস করব। আপনার আত্মার শান্তি কামনা করছি। ওপারে ভালো থাকবেন। প্রার্থনা করছি আপনার জন্য।

শামস সুমন ভাই আমাদের সিনিয়র ছিলেন। তাকে চিনতাম, অভিনয়ের আগে যখন সহকারী পরিচালক ছিলাম তখন থেকে। প্রথম সেটে দেখার স্মৃতি চোখে ভাসছে। প্রথম দিন আমাকে অসম্ভব আপন করে নিয়েছিলেন। সেই সুন্দর সম্পর্ক আজীবন ছিল। 

সুমন ভাই মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে দেখা হয়েছিল চ্যানেল আইতে। ওই সময় যে কোনো কারণে একটু মন খারাপ ছিল। কিন্ত, সুমন ভাই দেখা হওয়ার পর চোখে চোখ রাখেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলেন। এরপর আমার সব মন খারাপ চলে যায়। এই হচ্ছেন আমাদের সুমন ভাই, একটা ম্যাজিক তিনি। 

বড়দের কাছ থেকে স্নেহে পেতেন আর আমাদের কাছ থেকে পেতেন সম্মান। সবার প্রিয় সবাই হতে না পারলেও তিনি পেরেছিলেন। 

আমার আর দীপা খন্দকারের বিয়ের দিন সুমন ভাই একটি কাজ করেছিলেন যা ভুলব না। তিনি তখন একটি রেডিওতে লাইভ অনুষ্ঠান করছেন। হঠাৎ ফোন করে বলেন, শাহেদ, দীপাকে দাও তো, আজকের বিশেষ দিনে দীপার কোন গানটা প্রিয়? তারপর দীপাকে দেওয়ার পর বলেন, জেমসের বাবা গানটি খুব প্রিয়। এই হচ্ছে সুমন ভাই।

তখন ভেবেছিলাম, মানুষের ভেতরের অনুভব বা দুঃখটা আমরা অনেকেই জানি না। সুমন ভাইয়ের ভেতরে কোনো দুঃখ থাকলেও তা প্রকাশ করেননি বরং আনন্দটাই প্রকাশ করতেন। তার মতো অসাধারণ সহশিল্পী পাওয়া মানে অনেক কিছু পাওয়া। 

খুব মিস করব সুমন ভাই আপনাকে।

Share post:

Popular

More like this
Related

প্রতি ঈদে কেন চামড়ার দাম কমে যায়

ঈদের ছুটি শেষে মানুষ যখন রাজধানীতে ফিরছেন, তখন ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা...

‘ফুটবল মার্কা আসলো কোথা থেকে?’— যশোর বকচরে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে চরম অনিয়ম

যশোরের বকচরে অবস্থিত ‘পুরাতন লোহা ও মোটর ব্যবসায়ী মালিক...

হলে হলে ছুটছেন তারকারা

অনেক দিন ধরেই ঈদে বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পাওয়ার...

দ. কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু’র ২৩ বছর কারাদণ্ড

সামরিক আইন জারিতে ভূমিকার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে...