অবসর গুঞ্জন উড়িয়ে শেষ অ্যাশেজ টেস্টে ইংল্যান্ডকে ধোঁয়াশায় রাখলেন স্মিথ

Date:

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন এই মুহূর্তে তার ক্যারিয়ারের শেষ তারিখ ঠিক করা নেই। শনিবার অবসর প্রসঙ্গে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি যেমন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্ত বার্তা দিলেন, তেমনি সিডনিতে অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার একাদশ কেমন হবে, তা নিয়েও ইংল্যান্ডকে রেখে দিলেন অনিশ্চয়তায়।

রোববার সিডনি টেস্টের পর উসমান খাওয়াজার অবসর এবং চোটের কারণে নাথান লায়নের ছিটকে যাওয়া, এই দুই ঘটনায় স্কট বোল্যান্ডের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও বয়সী ক্রিকেটার হয়ে উঠছেন ৩৬ বছর বয়সী স্মিথ। ২০২৭ সালে ইংল্যান্ডে পরের অ্যাশেজে তাকে দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নে সরাসরি উত্তর না দিলেও স্মিথ জানালেন, ক্রিকেটটা তিনি এখনো উপভোগ করছেন।

‘আমি অনেক দিন ধরেই বলছি দিন ধরে, সিরিজ ধরে ভাবছি। শেষে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটা দেখা যাবে। এই মুহূর্তে আমি ভালোই খেলছি, উপভোগ করছি, দলের জন্য অবদান রাখছি। সব মিলিয়ে মজা পাচ্ছি। তাই আমার জন্য কোনো নির্দিষ্ট শেষ তারিখ নেই।’ বলেন ১২২ টেস্ট খেলে ১০ হাজারের বেশি রান করা স্মিথ।

খাওয়াজার অবসর প্রসঙ্গে স্মিথ আরও যোগ করেন, ‘উসমান তো আমাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞদের একজন। তাই ও আর আমি যদি একসঙ্গে এই সপ্তাহেই সরে যাই, তা আদর্শ হবে না। না, আমি খেলতে চাই।’

শুক্রবার ৩৯ বছর বয়সে অবসরের ঘোষণা দেন খাওয়াজা। ২০১১ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তার, সেখানেই ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন তিনি। দীর্ঘদিনের সতীর্থকে শ্রদ্ধা জানালেও, ক্যারিয়ারে ‘জাতিগত স্টেরিওটাইপিং’-এর অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি স্মিথ, ‘উসমান খাওয়াজার মনের ভেতরে ঢুকছি না।’

তবে পার্থে প্রথম টেস্টের আগে গলফ খেলতে গিয়ে পিঠের খিঁচুনির কারণে ব্যাট করতে না পারা এবং তা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে স্মিথ বলেন, ‘সে সবসময় একইভাবে প্রস্তুতি নেয়, কঠোর পরিশ্রম করে। ম্যাচের আগের দিন গলফ খেলেছিল বলে যে সমালোচনা হয়েছিল, সেটা অন্যায্য। ১৫ বছর ধরে সে এভাবেই করেছে এবং দারুণ একটা ক্যারিয়ার গড়েছে।’

সিডনি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দলগঠন নিয়ে স্মিথ জানালেন, সব বিকল্পই খোলা। দু’জন অলরাউন্ডার খেলতে পারে, স্পিনার খেলতে পারে, আবার স্পিনার নাও থাকতে পারে। উইকেট দেখে তারপর ঠিক করব কোন পথে এগোব,’ বলেন তিনি।

পাঁচ টেস্টের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। পার্থ ও ব্রিসবেনে আট উইকেটের জয়, এরপর অ্যাডিলেডে ৮২ রানের জয়ে তারা আগেই ধরে রেখেছে ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ। ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় ইংল্যান্ড, মেলবোর্নে চার উইকেটে জিতে।

অ্যাশেজ নিশ্চিত হলেও প্রেরণার ঘাটতি নেই বলে জানালেন স্মিথ, ‘ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এখানে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজটা ৪–১ ব্যবধানে জিততে পারব। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ডব্লিউটিসি চক্রে আরেকটা টেস্ট জয়।’ 

 

Share post:

Popular

More like this
Related

ইরান যুদ্ধে কত খরচ হবে যুক্তরাষ্ট্রের?

কয়েকদিন ধরে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের...

যুক্তরাষ্ট্রের ফেলোশিপে নির্বাচিত ফিয়েরোর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ ইয়াসির আলম

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া...

ভবদহের দুঃখ কি ঘুচবে এবার?

যশোরের ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদীর নাব্য...

তেল-গ্যাস আমদানি বিল পরিশোধের চাপে বাড়ছে ডলারের দাম

জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি করতে...