দুর্গাপূজায় এবার দেশের ব্র্যান্ডেড পোশাকের দোকানগুলোয় বিক্রি বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি ৫ থেকে ১০ শতাংশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎসবের চাহিদা, বিশেষ করে নারীদের পোশাকের কেনাকাটা এই বাড়তি বিক্রির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তারা বলছেন, যতটা প্রত্যাশা ছিল, বিক্রি সে অনুযায়ী হয়নি। কারণ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক ক্রেতাই বাজেটে কাটছাঁট করছেন। এই কারণে ক্রেতারা অন্য সময়ের তুলনায় কম পণ্য কিনেছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, চার বছরের বেশি সময় ধরে দেশের সাধারণ গড় মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে।
বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ফ্যাশন হাউস অঞ্জন’স এর মালিক শাহীন আহমেদ বলেন, গত বছরের তুলনায় তাদের বিক্রি প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যা বিক্রি হয়েছে তাতে আমি আমি সন্তুষ্ট।’
জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস রঙ বাংলাদেশ -এর প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস জানান, তাদের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।
তিনি বলেন, আশা করেছিলাম ১০ শতাংশ। তার ভাষ্য, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াই এর একটি কারণ। আগে যারা দুটি পোশাক কিনতেন, এবার তাদের অনেকে কিনেছেন একটি।
এমব্রেলার বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান কাজী মাকতুম শোভন জানান, তাদের বিক্রি প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, উৎসবের সময় তাদের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে মেয়েদের ম্যাচিং সালোয়ার-কামিজের চাহিদা ছিল বেশি।
ইয়েলোর মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী আসাদ কবির জানান, এবার দুর্গাপূজায় বিক্রি মোটামুটি ভালো।
তবে, আউটলেট খোলা রাখার সময় কমে যাওয়ার বিষয়টি ব্যবসার প্রভাব ফেলেছে, বলেন তিনি।
উৎসবকেন্দ্রিক খুচরা বিক্রির কোনো সরকারি হিসাব নেই। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, বছরের এ ধরনের মোট বিক্রির প্রায় ৭০ শতাংশ হয় দুই ঈদে। দুর্গাপূজার অংশ প্রায় ১০ শতাংশ। বাকিটার বড় অংশ আসে পহেলা বৈশাখ ও অন্যান্য উপলক্ষে।
ব্যবসায়ীরা জানান, পূজার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কেনাকাটা শুরু হয়। উৎসব শুরুর পরও কয়েক দিন তা চলে। এবারও সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজের।
আর উৎসব মৌসুমে ফ্যাশন ব্র্যান্ড, পোশাকের দোকান ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্রগুলো সাধারণত নতুন সংগ্রহ আনে, সঙ্গে থাকে মূল্য ছাড়।
মিষ্টিতে ভাটা
পূজায় সাধারণত মিষ্টির বিক্রিও বাড়ে। কিন্তু এবার তা হয়নি।
প্রিমিয়াম সুইটসের বিক্রি গত বছরের চেয়ে বাড়েনি। কানাডার অন্টারিওভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশের প্রধান মাহবুবুর রহমান বকুল বলেন, রেস্তোরাঁয় ক্রেতার আনাগোনা ছিল ভালো। ফলে খাবার বিক্রি গত বছরের কাছাকাছি ছিল।
বিক্রি আবার বাড়াতে হলে ভোক্তার আস্থা ফেরানো জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তার কথায়, ‘মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও নিরাপদ ও আশাবাদী বোধ করতে হবে।’
