পাঠাও সার্ভারে সাইবার হামলা, ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল ও ফোন নম্বর চুরি

Date:

সাইবার হামলার ঘটনায় ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম পাঠাও।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হামলার এ ঘটনা ঘটে। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হলেও সিস্টেম স্থিতিশীল করার কাজ চলায় কিছু ব্যবহারকারী সাময়িক সমস্যায় পড়তে পারেন।

পাঠাও জানিয়েছে, কিছু ব্যক্তিগত তথ্য, যার মধ্যে নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর রয়েছে, দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে।

তবে কতজন ব্যবহারকারী এতে আক্রান্ত হয়েছেন বা কীভাবে হামলাকারীরা পাঠাওয়ের সিস্টেমে প্রবেশ করেছে, তা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

পাসওয়ার্ড, পেমেন্টের তথ্য, পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্যও হাতানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পাঠাও কিছু জানায়নি।

ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করল পাঠাও

৭ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাঠাও জানায়, তারা সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত করেছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

কোম্পানিটি বলেছে, আমরা জানতে পেরেছি, নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে।

এ ঘটনার সময় ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে দেওয়া এটিই প্রথম স্বীকারোক্তি।

ব্যক্তিগত তথ্যের অন্য কোনো ধরনেও অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি না, তা জানায়নি পাঠাও। পাসওয়ার্ড, পেমেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য এ ঘটনায় জড়িত কি না, সে বিষয়েও কিছু জানায়নি কোম্পানিটি।

পাঠাও বলেছে, তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং পাঠাওয়ের সিস্টেমের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানিটি আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তদন্ত চলাকালে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এ ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে বলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছে পাঠাও।

কোম্পানিটি বলেছে, পাঠাওয়ের পরিচয়ে আসা অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা, ফোনকল বা লিংকের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য আমরা ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করছি। এ ধরনের যোগাযোগের জবাবে কখনোই পাসওয়ার্ড, পিন বা ওটিপি শেয়ার করা উচিত নয়।

কী ধরনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে কোম্পানিটির তদন্তের মধ্যেই এ সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।

নাম, ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে ফিশিং বা অন্যের পরিচয় ধারণ করে প্রতারণার চেষ্টা আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হতে পারে। তবে এ ধরনের কোনো হামলা হয়েছে বলে পাঠাও জানায়নি।

পরবর্তী তথ্যের জন্য ব্যবহারকারীদের কোম্পানিটির আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে বলেছে পাঠাও।

কোম্পানিটি বলেছে, এ ঘটনা সম্পর্কে যাচাই করা তথ্য ও নির্দেশনা পাঠাওয়ের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হবে।

তথ্য ফাঁসের পরিধি এখনো অস্পষ্ট

কতজন ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অননুমোদিত প্রবেশ কতক্ষণ ধরে চলেছে কিংবা তাদের সিস্টেমে কীভাবে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে, তা জানায়নি পাঠাও।

কোম্পানিটির সিস্টেম থেকে আরও বড় পরিসরে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলোও নিশ্চিত করেনি পাঠাও।

দ্য ডেইলি স্টারের ই-মেইলে পাঠানো প্রশ্নের জবাবে পাঠাওয়ের পার্টনারশিপ অ্যান্ড পিআর ম্যানেজার মো. ফয়েজ বলেন, ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য ফাঁসের অভিযোগ এবং ওই ডেটাসেটে ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড ও ২৫ কোটি ডেটাবেজ সারি থাকার দাবি এখনো যাচাই করেনি কোম্পানিটি।

তিনি বলেন, এ পর্যায়ে পাঠাও এসব দাবি যাচাই করেনি। তদন্ত চলছে।

ফয়েজ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ড্রাইভিং লাইসেন্স, অবস্থান, ঠিকানা বা আর্থিক তথ্য-সংক্রান্ত দাবিগুলো এ পর্যায়ে যাচাই করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পাঠাওয়ের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হবে।

পাঠাও বিভিন্ন আর্থিক সেবা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ওয়ালেট পাঠাও পে এবং এখন কিনে পরে পরিশোধের (বিএনপিএল) সুবিধা পাঠাও পে লেটার।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ও নেপাল, দুই দেশেই পাঠাওয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

হামলাকারীরা কীভাবে সিস্টেমে প্রবেশ করেছে, সে বিষয়ে ফয়েজ বলেন, তদন্ত চলছে।

তিনি জানান, পাঠাও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছে, বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছে।

চার লাখ ডলারের ইউএসডিটি মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যাচাই না করা অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না পাঠাও।

নোট: দ্য ডেইলি স্টারের প্রশ্নের জবাবে পাঠাওয়ের দেওয়া তথ্য যুক্ত করে ৯ অক্টোবর প্রতিবেদনটি আপডেট করা হয়েছে।

 

Share post:

Popular

More like this
Related

কাপ্তাই হ্রদে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হাউসবোট, রয়েছে রাত্রিযাপনের সুবিধাও

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে চালু হয়েছে বেশ...

উৎপাদনে ফিরেছে যমুনা সার কারখানা

গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর আবারও...

এইসব দিনরাত্রির নীলু ভাবি এখন কেমন আছেন?

বাংলাদেশের অভিনয়জগতের অন্যতম গুণী শিল্পী ডলি জহুর। শঙ্খনীল কারাগার...

ইরানে সামরিক অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে যা জানালেন ট্রাম্প

গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে...