রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী নিয়োগের নীতিমালা সংশোধন করেছে সরকার। এতে বিশেষ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) এ সংশোধনী জারি করে। সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।
আগের নিয়মে, এই ছয় ব্যাংকের এমডি বা সিইও হতে হলে প্রার্থীকে কর্মরত বা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা হতে হতো এবং কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হতো। চলতি বছরের জুলাইয়ে এই শর্ত সংশোধন করে এমডি বা সিইও পদের ঠিক আগের পদটিতে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত যুক্ত করা হয়।
নতুন নিয়মে এই শর্ত দুটি বহাল রয়েছে। তবে, বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সুনাম থাকলে এমডি বা সিইও পদের আগের পদটিতে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
৪৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সসীমা, তিন বছরের চুক্তির মেয়াদ এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়ায়ও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
নতুন নীতিমালা আসার পর আগেরটি বাতিল হলেও ওই নীতিমালার আওতায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো বৈধ থাকবে।
নয় মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নীতিমালাটি পরিবর্তন করল সরকার।
নীতিমালা অনুযায়ী, সরকার সরাসরি এমডি নিয়োগ না দিয়ে মনোনয়ন দেয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি পাওয়ার পর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ চূড়ান্ত করে।
ছয়টি বিশেষায়িত ব্যাংকের পাশাপাশি বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের প্রধানদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতাও সরকারের হাতে থাকছে।
সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বদানের সক্ষমতা, চাকরির রেকর্ড এবং ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ফলে শুধু জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নির্ধারিত হবে না।
উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতির জন্য নম্বর বণ্টনের ছকে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। প্রার্থীদের স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকা চলবে না। বাছাই কমিটির সুপারিশের পাশাপাশি প্রার্থীর গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশড ফেলো ফাহমিদা খাতুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ব্যাংকে, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে দক্ষ ও যোগ্য জনবল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যাংককে যেমন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে, তেমনি দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নিয়ম ও নীতি মেনেই চলার মাধ্যমেই কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থা পরিবর্তন সম্ভব। কিন্তু ঠিক এই সময়ে কেন নীতিমালাটি সংশোধন করা হলো, তা আমি বুঝতে পারছি না।’
