পূজার লম্বা ছুটিতে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী ঢাকা প্রায় ফাঁকা। বাজারে ক্রেতা কম। তবুও সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম। তবে অন্যান্য অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম রয়েছে প্রায় আগের মতোই।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে আজ শুক্রবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা এস কে বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী সবুজ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পাইকারি দরে চিচিঙ্গা কেজিপ্রতি ও চালকুমড়া প্রতিটি ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। উচ্ছে, করলা ও বরবটি কেজিপ্রতি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম গত সপ্তাহে ১৫-২০ টাকার আশপাশে ছিল।
শিমের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি থাকলে বৃহস্পতিবার পাইকারি দরে ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন তিনি। কাঁচা মরিচও ৯০-১০০ টাকা থেকে কমে ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
পাইকারি বাজারে প্রতিটি লাউ ৪-৫ টাকা থেকে শুরু করে ৮-১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট ফুলকপি প্রতিটি ১০-১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
তবে খুচরা বাজারে এসব সবজি আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দুই বাজারেই দোকানভেদে কাঁচা সবজি পাইকারি মূল্যের চেয়ে কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দামের ওঠানামার কারণ জানতে চাইলে সবুজ বলেন, ‘বন্ধের মধ্যে বাজারে সবজি আসছে কম, এজন্য দাম কিছুটা বেড়েছে।’
খুচরা বাজারে তুলনামূলক বেশি দামের ব্যাপারে কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা হাসান আলী বলেন, ‘আমরা তো কিনে এনে বিক্রি করি। দোকানের ভাড়া আছে, কর্মচারীর বেতন আছে। আমাদেরও তো লাভ করতে হবে, সংসার চালাতে হবে।’
চাল-ডাল-তেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম প্রায় অপরিবর্তিতই রয়েছে।
কেজিপ্রতি বিআর আটাশ ৪৮-৫৫ টাকা, মিনিকেট ৬৫-৬৯ টাকা, নাজিরশাইল ৮০-৯২ টাকা ও চিনিগুড়া ১৬০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশি মসুর ডাল ১৪০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৯০ টাকা, দেশি মুগ ডাল ১৬০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা, বুট ১২০ টাকা, ডাবলি ৫৫ টাকা কেজি ও পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল ৯৯০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দোকানভেদে দামে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে।
বিক্রমপুর বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী হানিফ খন্দকার জানান, মানভেদে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪০–৪৬ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি। খুচরা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ৪৮-৫৫ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে ৩-৪ টাকা কমেছে।
তবে আদা-রসুনের দাম প্রায় অপরিবর্তিতই রয়েছে। পাইকারি বাজারে আদা পাওয়া যাচ্ছে কেজি ১৪০-১৬০ টাকায়, খুচরা বাজারে ১৮০-১৯০ টাকায়।
বড় রসুন ১৬০-১৬৫ টাকা ও ছোট রসুন ৭৫-৮০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে বড় রসুন ১৯০-২০০ টাকা ও ছোট রসুন ৮৫-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
আলুর দামও কিছুটা কমেছে। পাওয়া যাচ্ছে কেজিপ্রতি পাইকারি ১২-১৪ টাকা ও খুচরা ২০-২৫ টাকায়
ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। লাল ডিম ১৩৫-১৪০ টাকা ও সাদা ডিম ১৩০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. রাসেল বলেন, ‘এখন পূজার ছুটির কারণে ক্রেতা নেই। ছুটি শেষে সবাই এলে দাম বেড়ে যাবে।’
খাসি ও ছাগলের মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বাড়লেও ক্রেতা না পাওয়ায় আগের দামেই ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। খাসি ১ হাজার ২৫০ ও ছাগল ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ফ্রেশ খাসির মাংসের দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. বাবুল। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা কেজিদরে পাওয়া যাচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি ১৭৫-১৮০ টাকা, হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড ২৮০-২৮৫ টাকা, সোনালি ৩০০-৩১০ টাকা, লেয়ার ৩২০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
ভোক্তা পর্যায়ে প্রমাণ সাইজের চাষের রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩০০-৩২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাঙ্গাস ১৮০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা, কই মাছ ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফলের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অল্প পরিমাণে ওঠানামা করছে। মাল্টা ৩৪০-৩৫০ টাকা, ফুজি আপেল ৩২০ টাকা, গালা আপেল ৩৬০ টাকা, সবুজ আপেল ৩৮০ টাকা, নাশপাতি ৩০০ টাকা, লাল ও সবুজ আঙুর ৪২০, দেশি ড্রাগন ১৬০-২০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে আঙুর ৪৪০ টাকা ও মাল্টা ৩২০-৩৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন ফলবিক্রেতা মোহাম্মদ বিল্টু।
সন্তানের জন্য ড্রাগন ফল কিনছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুস সাত্তার।
‘কী আর বলব, দাম বাড়া-কমা তো আর আমাদের হাতে নাই। আমাদের এদিক-সেদিক করেই চলতে হচ্ছে। যখন, যতটুকু পারছি, পরিবারের জন্য বাজার করে নিয়ে যাচ্ছি,’ বলেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা এক গৃহিনী বলেন, ‘আমার বাসায় সবজি খাওয়ার প্রতি বাচ্চাদের আগ্রহী করে তুলতে চেষ্টা করি। সবজির দামটা আরেকটু নাগালের মধ্যে থাকলে আমাদের উপকার হতো।’
