আইডিয়া চুরি করছে এআই, গবেষকদের শঙ্কা

Date:

গবেষণার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করছেন অনেক বিজ্ঞানী। কেউ নতুন ধারণা নিয়ে এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। কেউ গবেষণার তথ্য খোঁজেন। আবার কেউ নিজের লেখা ঠিক করতে এআইয়ের সাহায্য নেন।

কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে, এআইকে নিজের গবেষণার কথা জানালে সেই ধারণা নিজেদের কাজ ব্যবহার করে কিনা?

সায়েন্টিফিক আমেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গবেষকদের দেওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মডেলের সফলতা হিসেবে দেখাচ্ছে।

যেমন ওপেনএআই দাবি করেছে, তাদের একটি এআই মডেল গণিতের মিলিয়ন ডলারের একটি সমস্যার সমাধান করেছে। এরপর নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গণিতবিদ সন্দেহ প্রকাশ করেন। তার ধারণা, চ্যাটবটের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া তার গবেষণার সঙ্গে এই সাফল্যের সম্পর্ক আছে। কারণ তিনি এটা চ্যাটবটে আলোচনা করেছিলেন।

কয়েকসপ্তাহ পর নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় আরেকটি ঘটনা প্রকাশিত হয়। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জীববিজ্ঞানীর গবেষণা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি একদল এনজাইম নিয়ে কাজ করছিলেন। এনজাইম হলো জীবদেহে বিভিন্ন রাসায়নিক কাজ ঘটাতে সাহায্যকারী পদার্থ।

তবে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গবেষকদের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে তারা নিজেদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেয়নি।

এমন বিতর্কের পরও বিজ্ঞানীরা এআই ব্যবহার করছেন। কেউ গবেষণাপত্র খুঁজছেন। কেউ নিজের ধারণা যাচাই করছেন। আবার কেউ জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান বের করছেন।

কিন্তু এআইকে গবেষণার তথ্য দেওয়ার পর সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট তথ্য প্রকাশ করে না বলে অভিযোগ গবেষকদের।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইনস্টিটিউটের গবেষক জেনিফার কিং বলেন, ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার সম্পর্কে নানা ধারণা তৈরি করতে পারে এআই। কিন্তু এসব ধারণা কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তা সব সময় জানানো হয় না।

কিংয়ের পরামর্শ, এআই ব্যবহারের আগে অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত সেটিংস দেখে নেওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি বিশেষ অ্যাকাউন্টে তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিজের তথ্য দিয়ে এআই প্রশিক্ষণ বন্ধ করতে অনেক সময় ব্যবহারকারীকে নিজেই সেটিংস বদলাতে হয়।

আরেকটি বিষয় নিয়েও উদ্বেগ আছে। কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছে করে ব্যবহারকারীর তথ্য দিয়ে এআইকে প্রশিক্ষণ না দিলেও, অন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

গবেষণার কাজ দ্রুত করতে এআই সাহায্য করছে। তাই বিজ্ঞানীরা এখন উভয় সংকটে। এআই ব্যবহার করলে গবেষণার গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় থাকে। আবার ব্যবহার না করলে অন্য কেউ এআইয়ের সাহায্যে আগেই একই গবেষণার করতে পারেন।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক কম্পিউটারবিজ্ঞানী ক্লেমঁ কানোন বলেন, এআই ব্যবহার না করলে গবেষণার জগতে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা আছে। ফলে বিজ্ঞানীরা এক ধরনের দ্বিধায় পড়েছেন।

সায়েন্টিফিক আমেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু এর সঙ্গে বেড়েছে তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ। গবেষকদের ধারণা ও তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেই।

Share post:

Popular

More like this
Related

নারায়ণগঞ্জে বাউলদের কর্মসূচির ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগে আটক ১

নারায়ণগঞ্জে বাউলদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচির ব্যানার...

রাশিয়ার বাজার হারাচ্ছেন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকেরা

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় ব্যাংকিং লেনদেন ও পণ্য...

কবে মুক্তি পাচ্ছে স্পাইডার-ম্যানের নতুন পর্ব, কী আছে গল্পে

বিশ্বজুড়ে সুপারহিরোপ্রেমীদের কাছে স্পাইডার-ম্যান মানেই টম হল্যান্ড। মার্ভেল সিনেমাটিক...

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে নিহত ৮

ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়...