জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ হতে দেয়নি সরকার: গোলাম পরওয়ার

Date:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও এর মূল আকাঙ্ক্ষাগুলো এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার মতে, গণভোট ও জুলাই সনদের মাধ্যমে জনগণ যে সংস্কার এজেন্ডা অনুমোদন করেছিল, সরকার তা পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।

রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার মৌলিক সংস্কারের পথে না হেঁটে কেবল সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছে, যা দেশকে আবারও কর্তৃত্ববাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মামুনুর রশীদ।

দ্য ডেইলি স্টার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ফিরে তাকালে এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অর্জন কী বলে মনে করেন? আর জনগণের যেসব প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি, তার প্রধান কারণ কী?

গোলাম পরওয়ার: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পৃথিবীর যেকোনো গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক ঘটনা। এই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ছিল বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

অভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, সেখানে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি পথ অনুসন্ধান করা হয়েছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। প্রায় নয় মাস কাজ করে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর আমরা যে ‘জুলাই সনদ’ বা চার্টারে স্বাক্ষর করি, সেটিই ছিল, জুলাই অভ্যুত্থানের ও দেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

সবচেয়ে বড় অর্জন হলো কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে একটি অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরে হারিয়ে যাওয়া জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা মানুষ এক হয়ে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিল।

তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। অর্থাৎ জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর একটি প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার কথা ছিল। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তবে জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গণভোটের রায়কে কার্যত উপেক্ষা করেছে। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী—সবাই সেই গণভোটে অংশ নিয়েছিলেন। এখন সেটিকে অস্বীকার করার অর্থ জনগণের রায়কেই অস্বীকার করা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী।

দ্য ডেইলি স্টার: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা কী ছিল? ছাত্রনেতা বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় বা কৌশলগত বোঝাপড়া হয়েছিল কি?

গোলাম পরওয়ার: আন্দোলনটি প্রথমত ছাত্রদের ছিল। আপনারাও এটিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হিসেবেই জানেন। তবে আন্দোলন যখন এক দফার দিকে এগোতে থাকে এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ে, তখন ১৮ জুলাই আমি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনের ঘোষণা দিই এবং জনগণকে মাঠে নামার আহ্বান জানাই। 

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথা হয়েছিল, কীভাবে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া যায়। তবে কিছু কিছু জায়গায় সমন্বয়ের অভাবও ছিল। আমরা খবর পেয়েছি, কোনো কোনো নেতা বলেছেন যে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ কর্মসূচি হবে, কিন্তু পরে আর যোগাযোগ হয়নি। এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল।

শেষ পর্যন্ত আমরা দেশপ্রেমিক শক্তি হিসেবে ছাত্র-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে ছিলাম। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত, শহীদ ও কারাবরণ করেছেন। আমি নিজেও ১৯ জুলাই ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ৬ আগস্ট কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পাই।

দ্য ডেইলি স্টার: শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর নতুন সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান কী ছিল? আপনারা কি জাতীয় সরকারের পক্ষে ছিলেন?

গোলাম পরওয়ার: শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর কয়েক দিন কার্যত দেশে কোনো সরকার ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন, উপদেষ্টা কারা হবেন, তা নিয়ে ছাত্রনেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের বৈঠক ও মতবিনিময় হয়েছে। আমাদের সব পরামর্শ গৃহীত না হলেও সেসময় নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

দ্য ডেইলি স্টার: রাজনৈতিক সংস্কার, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বর্তমান অগ্রগতি আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা কী?

গোলাম পরওয়ার: বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ যদি জুলাই সনদের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলে একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে দেশ এগোতে পারত। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রচলিত সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করছে।

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলো—একটি মেনে নিয়ে তারা সরকার গঠন করলেন, অথচ অন্যটি মানছেন না! এটা যেন একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া দুই সন্তানের একজনকে স্বীকার করা ও অন্যজনকে অস্বীকার করার মতো।

সরকার যে বিশেষ সংসদীয় কমিটি করেছে, তা সংবিধান সংশোধনের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ, ‘সংশোধন’ মানে ছোটখাটো পরিবর্তন, আর ‘সংস্কার’ মানে সংবিধানের কাঠামো, দর্শন ও ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন আনা। 

বিচার বিভাগ অতীতে সংসদের নেওয়া একাধিক সংশোধনী বাতিল করেছে। জনগণের গণভোটের ভিত্তিতে গঠিত একটি সংস্থা যদি সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে সেটির আইনি ভিত্তি অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। মূলত আগের ফ্যাসিবাদী কাঠামো বহাল রাখা এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিপুল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্যই বিএনপি এই পথে হাঁটছে।

জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে। কিন্তু আমরা বলছি, গণভোটে যেহেতু কোনো ভিন্নমতের সুযোগ ছিল না, তাই পুরো রায়ই মেনে নিতে হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: সংবিধান সংশোধনে সরকার সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। আপনাদেরও পাঁচজন সদস্যের নাম দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াত সেখানে অংশ নেয়নি। এতে কি দাবি আদায়ের লড়াইয়ে আপনারা ওয়াকওভার দিয়ে দিচ্ছেন না?

গোলাম পরওয়ার: না, প্রশ্নই আসে না। আমরা শুরু থেকেই বলেছি, ধারণাগতভাবেই আমরা এই ধরনের সংশোধনের বিরোধী। আমরা সরকারকে বলেছি, সংশোধনের জায়গা থেকে বের হয়ে সংস্কারের জায়গায় আসতে হবে।

আইন অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডাকার কথা ছিল, তা হয়নি। এখন যদি সরকার প্রকৃত সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিতে চায়, তাহলে বিরোধী দলগুলো বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু সরকার তো সংশোধনের পথেই এগোচ্ছে। এর অর্থ, যেসব বিষয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়েই তারা একটি সংশোধনী আনতে চায়।

এভাবে সংবিধানের ফ্যাসিবাদী চরিত্র দূর হবে না। আমরা চাই না, এই রাষ্ট্র কাঠামো থেকে ভবিষ্যতে আরেকজন শেখ হাসিনা তৈরি হোক।

এখনো সময় আছে। সরকার যদি সংসদে প্রকৃত সংস্কারের প্রস্তাব আনে এবং সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিরোধী দলগুলো আলোচনা করতে পারে। অন্যথায় গণভোটে যারা সমর্থন দিয়েছেন, সেই ৭০ শতাংশ মানুষের ম্যান্ডেটের সঙ্গে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না। সংসদে সমাধান না হলে আমাদের জনগণের কাছেই ফিরে যেতে হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন? বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের অভিযোগ, সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে এগোচ্ছে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এমন অভিযোগ কতটা যৌক্তিক?

গোলাম পরওয়ার: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন থেকে সরে যাওয়াটাই ফ্যাসিবাদের দিকে যাওয়ার প্রথম লক্ষণ। বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফাতেই বলা হয়েছিল, তারা ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কার করবে। কিন্তু এখন তারা বলছে, শুধু সংশোধন করবে। অর্থাৎ তারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকেও সরে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে অংশ নিয়েছেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থ হলো তিনি ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি জানিয়েছেন। এখন যদি তিনি সেটি অস্বীকার করেন, তাহলে সেটি জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে সরে আসার শামিল।

আমরা বলছি, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করতে হবে। একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান ও দলপ্রধান থাকতে পারবেন না। কিন্তু যেসব মৌলিক বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে, সেগুলো বাদ দিলে সংবিধানের চরিত্রের কোনো পরিবর্তনই হবে না। সুতরাং, জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার থেকে সরে যাওয়াই কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ।

দ্য ডেইলি স্টার: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেছেন, বিরোধী নেতারা আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছেন। তার এই মন্তব্যকে কীভাবে দেখছেন?

গোলাম পরওয়ার: গ্রামে একটা কথা আছে—’যা দিয়ে মানুষ খায়, তারই ঢেঁকুর ওঠে।’ আমরা তো আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছি না। সরকার জুলাই সনদ উপেক্ষা করছে, প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ করছে, জেলা পরিষদ বা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক বসাচ্ছে—আমরা এসব অন্যায়ের সমালোচনা করছি। এগুলো আওয়ামী লীগের নয়, দায়িত্বশীল বিরোধী রাজনীতির ভাষা। 

দ্য ডেইলি স্টার: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের অবস্থান কী?

গোলাম পরওয়ার: এটি শেষ পর্যন্ত সরকার ও জনগণই নির্ধারণ করবে। আইনি প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে শেষ কথা বলবে জনগণ। জুলাই অভ্যুত্থানে যেভাবে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে, তারপর তারা রাজনীতি করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

দ্য ডেইলি স্টার: অনেক তরুণ মনে করছেন, গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বেশি সুফল রাজনৈতিক দলগুলো পেয়েছে, সাধারণ মানুষ নয়। এই হতাশাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

গোলাম পরওয়ার: দলগুলো নয়, সুফল পাচ্ছে শুধু ক্ষমতাসীনরা। তারাই সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে, নিজের লোক বসাচ্ছে এবং নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তুলছে। সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার তারা রক্ষা করতে পারছে না।

দ্য ডেইলি স্টার: বিরোধী দলে যাওয়ার পর জামায়াতের কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্যকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়াতে দেখা গেছে। দল হিসেবে বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

গোলাম পরওয়ার: মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে। আল্লাহর নবী ছাড়া পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই, যিনি ভুলের ঊর্ধ্বে। জামায়াতও মানুষের সংগঠন। ফলে ব্যক্তিগতভাবে কেউ ভুল করতে পারেন, প্রবৃত্তির বশবর্তী হতে পারেন। তবে আমাদের সংগঠনের ভেতরে চরিত্র, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির একটি ধারাবাহিক চর্চা রয়েছে।

ব্যতিক্রমী কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশে এমন নজির খুব কমই আছে যে, একজন তিনবারের সংসদ সদস্যকে কোনো অপরাধের অভিযোগে দুই দিনের মধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটাই প্রমাণ করে যে, আমাদের কাছে ব্যক্তি নয়, সংগঠন বড়। ব্যক্তি ভুল করতে পারেন, কিন্তু সংগঠন সেই ভুলকে প্রশ্রয় দেয় না।

দ্য ডেইলি স্টার: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এটিকে কি ক্যাম্পাস রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন?

গোলাম পরওয়ার: অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। আমাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল তাদের ছাত্রসংগঠনকে ব্যবহার করছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা দেখেছি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রনেতাদের মারধর করা হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

দ্য ডেইলি স্টার: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যুদ্ধাপরাধীদের একটি ব্যানার ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?

গোলাম পরওয়ার: ওই বিষয়ে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের বক্তব্য হলো, সেখানে উসকানি দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

দ্য ডেইলি স্টার: কখনো কি মনে হয়েছিল, হাসিনা সরকারের পতন ঘটতে পারে? আর ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ কি আপনার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ছিল?

গোলাম পরওয়ার: আমরা বিশ্বাস করতাম, সীমাহীন কর্তৃত্ববাদ ও দমন-পীড়নের শাসন চিরস্থায়ী হতে পারে না। একদিন না একদিন এর পতন হবেই। তবে এত দ্রুত এবং এত নাটকীয়ভাবে ঘটনাগুলো ঘটবে, তা কখনো ভাবিনি।

৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ ছিল সত্যিই বিস্ময়কর। এটি ছিল একটি সার্বজনীন আন্দোলন। সেনাবাহিনী, প্রশাসন কিংবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সমর্থন থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। আমরা এটিকে মহান আল্লাহর অসীম করুণা মনে করি। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ, রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে হয়তো আল্লাহ এই জাতির প্রতি দয়া করেছেন।

 

Share post:

Popular

More like this
Related

ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই...

জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স...

আবারও ছোটকাকু চরিত্রে আফজাল হোসেন

এবার ঈদেও ছোটপর্দায় আসছে জনপ্রিয় ‘ছোটকাকু’ সিরিজের নতুন নাটক।...

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় ইউরোপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে...