২ দিনে সাভার ট্যানারিতে চামড়া এসেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার

Date:

ঈদের প্রথম দুই দিনে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে পৌঁছেছে।

আজ শনিবার বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. শওকত উল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত ঈদের দিন ও পরদিন শিল্পনগরীতে চামড়া এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার গরু ও ১৬ হাজার ছাগলের চামড়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংগৃহীত চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দুই থেকে তিন দিন পর প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে।’

এবারের কোরবানির ঈদকে ঘিরে শিল্পখাতের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শওকত উল্লাহ।

ট্যানারি মালিকরা এ বছর ৭৫ লাখ থেকে ৮০ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ চামড়া সরাসরি রাজধানী থেকে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে ঢাকায় কাঁচা চামড়ার দাম সামান্য বেড়েছে। অবশ্য তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এখনো নিচে রয়েছে।

রাজধানীতে বড় ও মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম ঈদের দিনের তুলনায় অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে। তবে ছাগলের ও ছোট আকারের গরুর চামড়ার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বড় ও ভালো মানের চামড়া বেশি আসার কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, লালবাগ এবং পোস্তা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় আকারের গরুর চামড়ার দাম উঠছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

ঈদের দিন মাঝারি আকারের চামড়া ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকায় আকারভেদে গরুর চামড়া ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে।

পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। মান ও আকারভেদে চামড়া ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে, রাজধানীর বাইরে কম দামের কারণে ব্যবসায়ীরা অবিক্রীত চামড়া ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির গতকাল লালবাগের পোস্তায় চামড়া বিক্রি পরিদর্শন শেষে বলেন, ‘সরকার কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ জুলাই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।’

মুক্তাদির আরও বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করা হলেও এখনও অনেক ট্যানারি পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।’

তিনি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন। এসব সমস্যার সমাধান এবং অধিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্পে আরও শিল্পায়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Share post:

Popular

More like this
Related

প্রতি ঈদে কেন চামড়ার দাম কমে যায়

ঈদের ছুটি শেষে মানুষ যখন রাজধানীতে ফিরছেন, তখন ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা...

‘ফুটবল মার্কা আসলো কোথা থেকে?’— যশোর বকচরে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে চরম অনিয়ম

যশোরের বকচরে অবস্থিত ‘পুরাতন লোহা ও মোটর ব্যবসায়ী মালিক...

হলে হলে ছুটছেন তারকারা

অনেক দিন ধরেই ঈদে বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পাওয়ার...

দ. কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু’র ২৩ বছর কারাদণ্ড

সামরিক আইন জারিতে ভূমিকার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে...