হকির ‘গোল মেশিন’ খেতাব পেতে চান রকি

Date:

জুনিয়র হকি বিশ্বকাপ পেনাল্টি-কর্নার বিশেষজ্ঞ আমিরুল ইসলাম আলো কাড়েন ১৮ গোল করে, যার সুবাদে বাংলাদেশ জেতে চ্যালেঞ্জার ট্রফি। তবে আক্রমণ সাজানোর মূল শিল্পী ছিলেন রকিবুল হাসান রকি—চমকপ্রদ স্টিকওয়ার্ক ও ড্রিবলিংয়ে তিনি করেন ৫ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করান আরও অসংখ্য গোল। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপে কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই মিডফিল্ডার কথা বলেছেন দলের যাত্রা, বাংলাদেশে হকির বর্তমান অবস্থা এবং নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে।

সীমিত প্রস্তুতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ অভিষেকে ১৭তম স্থান অর্জন করে অনেককে চমকে দিয়েছে—এই পরিবর্তনটা কীভাবে হলো?

রকিবুল হাসান রকি: আমাদের লক্ষ্য ছিল অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা, কিন্তু আমাদের গ্রুপটা খুব কঠিন ছিল—অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দল ছিলো। তারপরও আমরা যা অর্জন করেছি তাতে আমরা গর্বিত। এটা মাসের পর মাস কঠোর পরিশ্রমের ফল… শুরু থেকেই আমাদের দৃঢ় সংকল্প ছিল সবকিছু উজাড় করে দেবার। স্টাফরা আমাদের ওপর ভরসা রেখেছে, আর সুইজারল্যান্ডকে ৫-৩ গোলে হারানোর পর আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। যখন জানলাম গ্রুপ পর্ব শেষে চ্যালেঞ্জার ট্রফি দেওয়া হবে, তখনই আমরা লক্ষ্য করি—বাংলাদেশের প্রথম বৈশ্বিক হকি ট্রফিটা আমরা ঘরে আনব।

কোচ সিগফ্রিড আইকম্যান আসার পর কী পরিবর্তন হলো?

রকি: তিনি আমাদের রক্ষণভাগকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন এবং বার্তাটা ছিল খুব সহজ—রক্ষণটা মজবুত করো, সুযোগ নিজে থেকেই আসবে। পাশাপাশি কোয়ালিফায়ারে কোচ আশিকুজ্জামান এবং জুনিয়র এশিয়া কাপে মওদুদুর রহমান শুভর অধীনে করা কাজটাও আমাদের অনেক সাহায্য করেছে।

আপনার আগের গোলসংখ্যা বিবেচনায় এবার মাত্র পাঁচ গোল—কোনো আক্ষেপ আছে?

রকি: কোনোভাবেই না। অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর কোচ আইকম্যান আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং কপালে চুমু দিয়ে বলেন—দল যেটা চেয়েছিল আমি সেটাই করেছি। এটা ব্যক্তিগত সংখ্যার চেয়ে অনেক বড় ব্যাপার। দলের জন্য খেলা—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই আপনাকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। কীভাবে সামলেছেন?

রকি: অনূর্ধ্ব-২১ দলে সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে এবং জাতীয় দলে থাকায় দুই প্রান্তেই দায়িত্ব নিয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল পেনাল্টি-কর্নার আদায় করা, কারণ জানতাম আমিরুল দুর্দান্ত ফর্মে আছে। আমরা বহু বছর একসঙ্গে খেলছি—আমাদের কেউই নামের জন্য খেলিনি।

সিনিয়র দল কি ওপেন প্লে থেকে আপনার গোলের ওপর ভরসা করতে পারে? আর জিমির সঙ্গে তুলনায় আপনি কী বলেন?

রকি: (রাসেল মাহমুদ) জিমি ভাই এখনও আমাদের সেরা ফরোয়ার্ড—অভিজ্ঞতা, খ্যাতি আর পারফরম্যান্সে তিনি আমার অনেক এগিয়ে। তিনি ২১ বছর ধরে খেলছেন। তবে আমিও চাই আমার একটা নাম হোক, চাই দর্শক আমাকে চেনুক। আমি চাই মানুষ আমাকে গোল মেশিন হিসেবে দেখুক।

আপনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কী?

রকি: আমার লুকানো স্বপ্ন—অলিম্পিকে খেলা এবং বাংলাদেশকে অলিম্পিকে তুলতে সাহায্য করা।

আপনার কোন দিকগুলোতে উন্নতি প্রয়োজন বলে মনে করেন?

রকি: আমার শারীরিক গঠন নিয়ে কাজ করতে হবে—আমি সহজেই ওজন বাড়িয়ে ফেলি। আমার স্টিকওয়ার্ক এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শক্তি হিসেবে আছে, কিন্তু মানসিক স্থিরতা এবং ফিনিশিংয়ে উন্নতি দরকার।

সামনে কোনো ঘরোয়া ম্যাচ নেই—এমন পরিস্থিতিতে দেশে ফিরতে কেমন লাগছে?

রকি: ঘরোয়া ম্যাচ না থাকলে আমরা খুব দ্রুত ফিটনেস হারাই—এটা আমাদের খুব কষ্ট দেয়। আমি আশা করি ফেডারেশন সব ঘরোয়া প্রতিযোগিতা—লিগ,  ইভেন্ট, স্কুল হকি—সবকিছু ফিরিয়ে আনবে, কারণ এটাই আমাদের জীবিকা। আর যতক্ষণ না আমি দেখি তরুণরা আমার জায়গা নিতে লড়ছে, ততক্ষণ আমার উন্নতির জন্য প্রকৃত চাপ থাকে না। এ কারণেই ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো অত্যন্ত জরুরি।

Share post:

Popular

More like this
Related

রিশাদের বলে বোল্ড হয়ে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন শামসুর

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষে...

নরসিংদীতে দেয়ালে ফাটল, দোকানে ক্ষয়ক্ষতি

দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী...

বাংলাদেশ কি চকরিয়া সুন্দরবন ফিরিয়ে আনতে পারবে?

দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত বিশাল প্রান্তর। যেখানে গাছপালা তো নেই-ই, এমনকি...

‘চিত্রা’ থেকে এবার অন্য চরিত্রে সাবিলা নূর

চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের সবচেয়ে ব্যবসা সফল সিনেমা ‘বনলতা...